পেনসিলের সিসে মা দুর্গার ভাস্কর্য বানিয়ে তাক লাগালেন বাগনানের সুরজিৎ

 

বিবিধ ডট ইন: পেনসিলের সিসের উপর ভাস্কর্য! ভাবা যায়? ঠিক এমনটাই করে দেখিয়েছেন বাগনানের বাসিন্দা সুরজিৎ অধিকারী নামের এক যুবক। পেনসিলের সিসের উপর তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন শিশু কোলে এক মায়ের অবয়ব। যার দৈর্ঘ্য ৫ মিলিমিটার!

বাগনানের সাসসীট গ্রাম পঞ্চায়েতের মাসিয়াড়া গ্রামের যুবক সুরজিৎ অধিকারী। ৫ মিলিমিটারের এই ভাস্কর্য ছাড়াও বিশ্বভারতী কলা ভবনের গ্রাফিক্স প্রিন্ট মেকিংয়ে মাস্টার ডিগ্রি অফ ফাইন আর্টসের ছাত্র সুরজিৎ পেনসিলের সিসে বানিয়েছে মা দুর্গা এবং গণেশের মূর্তিও। শুধু তাই নয়,আগেও চকের বিভিন্ন কারুকাজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেছেন তিনি। চকের উপর বিভিন্ন ভাস্কর্য তৈরি করে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস এবং ইন্টারন্যাশনাল বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

ছোট থেকেই অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে বড় হয়েছেন সুরজিৎ। তাঁর বাবা অমল অধিকারী পেশায় রাজমিস্ত্রীর জোগাড়ে। মা বুলা অধিকারী ঠোঙা বানিয়ে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করেন। অত্যন্ত গরিব পরিবারের সন্তান সুরজিৎ তাঁর প্রতিভা দিয়ে বারবার হার মানিয়েছেন পারিবারিক অস্বচ্ছলতাকে৷ তাঁর কাজ দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, আর্থিক বা অন্য কোনও বাধাই প্রতিভাকে দমিয়ে রাখতে পারে না৷ তিনি প্রতিভার জোরে বিশ্বের দরবারেও জায়গা করে নিয়েছেন৷

সুরজিৎ জানাচ্ছেন, ‘মহিলার কোলে শিশুর ভাস্কর্য তৈরি করতে আমার সময় লেগেছে আট ঘণ্টা এবং মা দুর্গার কোলে গণেশের ভাস্কর্যটি তৈরি করতে সময় লেগেছে তিন ঘণ্টা। আমি গণেশ জননীর দু’টি ভাস্কর্য তৈরি করেছি। একটি ভাস্কর্যে আমি শিশু কোলে ইটভাটার একজন সাধারণ মহিলাকে তুলে ধরেছি। যেখানে ভাস্কর্যের দু’দিক থেকে দেখলে মনে হবে মা তার শিশুকে কোলে দাঁড়িয়ে আছে। অন্য ভাস্কর্যটিতে আমি মা দুর্গার কোলে গণেশকে ফুটিয়ে তুলেছি।’

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: