এবার অস্কারের দৌড়ে কলকাতায় তৈরি অসমিয়া ছোট-ছবি! মনোনয়ন পেল ‘মুর ঘুড়ার দুরন্ত গতি’

 

বিবিধ ডট ইন: শর্ট ফিল্মের নাম ‘মুর ঘুড়ার দুরন্ত গতি’ বাংলায় যার মানে দাঁড়ায়, আমার ঘোড়ার দুরন্ত গতি। আর কলকাতার প্রেক্ষাপটে তৈরি এই অসমিয়া ছবিই এই মূহুর্তে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কলকাতায় তৈরি এই ছবিই এবার অস্কারের দৌঁড়ে। স্বল্প দৈর্ঘ্য বিভাগে ভারতের হয়ে অস্কারে যাচ্ছে ২৭ বছর বয়সি পরিচালক মহর্ষি তুহিন কাশ্যপের এই ছবি। যা কিনা আদতে কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউটে পড়ার সময় স্টুডেন্ট প্রোজেক্ট হিসেবে বানিয়ে ছিলেন মহর্ষি।

এই ছবি এক ‘আত্মবিশ্বাসী’ ব্যক্তির গল্প বলে, তাঁর বিশ্বাস বিশ্বের দ্রুততম ঘোড়াটা রয়েছে তাঁর কাছেই। এই ঘোড়া নিয়েই বিশ্বজয় করতে চান তিনি। তিনি চান সমস্ত ঘোড় দৌড়ে জিততে। কিন্তু আদতে তার কাছে কোনো ঘোড়া নেই, রয়েছে গাধা! আর এই ‘গাধা পিটিয়ে ঘোড়া’ বানানোর গল্পের সঙ্গে বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটকে মিশিয়ে এই গল্পের চিত্রনাট্য সাজিয়েছেন পরিচালক।

এই ছবিতে অসমের ৬০০ বছরের পুরনো মৃতপ্রায় ‘আর্ট ফর্ম’ ওজাপলিকে ফিরিয়ে এনেছেন পরিচালক মহর্ষি। ওজাপালি হল এমন এক ‘আর্ট ফর্ম’ যেখানে নেচে-গেয়ে, অঙ্গভঙ্গি করে গল্প বলা হয়। সেই ফরম্যাটেই ছবি বানিয়েছেন পরিচালক। ওজাপালি শিল্পী এই ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ইতিমধ্যেই দেশে বেশ কিছু ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পুরস্কার জিতেছে এই ছবি।

এ প্রসঙ্গে মহর্ষি জানিয়েছেন, ‘একেবারে স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো লাগছে। ভাবতেই পারছি না। এই ছবির সঙ্গে আমরা খুব নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলাম। ছবির বেশিরভাগ শুটিং হয়েছে কলকাতায়।’

ছবির কলাকুশলীদের মধ্যে বেশিরভাগই কলকাতার এসআরএফটিআই-এর ছাত্র-ছাত্রী। ছবিটি আদপে ‘স্টুডেন্ট প্রজেক্ট’। বাইপাসের ধারে অবস্থিত ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্দরেই হয়েছে ছবির বেশিরভাগ অংশের শুট। কিছু শুটিং অবশ্য হয়েছে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে। ইতিমধ্যেই দেশে বেশ কিছু পুরস্কার জিতেছে এই ছবি। অস্কারের মঞ্চে কী হয়, আদৌ শেষ হাসি হাসে কিনা ছাত্রছাত্রীদের হাতে গড়া এই প্রজেক্ট, তা তো বলবে সময়।

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: