সৈন্যদের চাঙ্গা রাখতে ‘ম্যাজিক পিল’, এই সিন্থেটিক ড্রাগই কি কাল হল হিটলারের জীবনে?

বিবিধ ডট ইন: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে মাত্র দুই দশক আগে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মেঘও আকাশে ঘনীভূত হয়েছে। কারণ শুধুমাত্র একটা, জার্মানির একনায়ক অ্যাডলফ হিটলার জার্মান জাতকে পৃথিবীর শ্রেষ্টতম জাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। যার ফলস্বরূপ ডিটেনশন ক্যাম্পে নির্বিচারে ইহুদি নিধন থেকে শুরু করে পোল্যান্ড পর্যন্ত দখল করতে দুবার ভাবেননি। এর পরেই ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এরই মধ্যে একটি বিষয় মিত্রশক্তির সেনানায়কদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন জার্মানি ৩ বছরে যে পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করেছিল, সেটাই এবার হিটলার করে দেখালেন মাত্র ৬ মাসের মধ্যে। তাহলে কি ২০ বছরের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সামরিক ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এনেছে জার্মানি, প্রশ্নটা এখানেই।

পরবর্তীকালে, বিভিন্ন গবেষক তাদের গবেষণার মাধ্যমে একটি তথ্য প্রকাশ করে। তাতে পরিষ্কার ভাবে বলা হয়েছিল, শুধুমাত্র উন্নতমানের অস্ত্র এবং রণকৌশল নয় । হিটলার উপলব্ধি করেছিলেন যে, যুদ্ধ জয়ের প্রধান অস্ত্র হল সেনাবাহিনী ও তাদের কর্মক্ষমতা। এবং এই কর্মক্ষমতা কে বিস্তৃত করার জন্য তিনি “ম্যাজিক পিল” এর ব্যবহার শুরু করেছিলেন। বা সহজ ভাষায় বললে মেথামফেটামিন বা মেথ। কিন্তু কী হয় তাতে?

আক্ষরিক অর্থে বলতে গেলে এটি হল ল্যাবে তৈরি এমন এক ওষুধ যা মূলত সজাগ করে রাখে মানুষের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র বা CNS-কে। এর প্রধান কাজই হল কোনও প্রকারের ক্লান্তি বা ঘুম অথবা খিদের মতো অনুভূতিগুলোকে হ্রাস করে এবং তার পরিবর্তে শরীরে অ্যাড্রিনালিন হরমোনের ক্ষরণ বৃদ্ধি করে। যার ফলস্বরূপ স্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পায় কর্মক্ষমতা। হিটলারের নাৎসি বাহিনীর কার্যক্ষমতার পিছনেও অত্যন্ত প্রভাব ছিল এই ওষুধটার। স্বাভাবিক ভাবে, প্রায় একটানা তিন দিন যুদ্ধ চালানোর ক্ষমতা বহন করত এই ওষুধটি।

সরকারি নথি অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন আনুমানিক সাড়ে তিন কোটি ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়েছিল জার্মান সেনাদের মধ্যে। তবে, সেনাদের মধ্যে নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী ওষুধ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা ছিল। কোনো ওষুধ ব্যবহার করা হতো শারীরিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য, আবার কোনও ওষুধ ব্যবহার করা হতো গতিবৃদ্ধির জন্য। অবশ্য বিশ্বযুদ্ধের আগে থেকেই “পারভিটিন” নামক ট্যাবলেটের গণ উৎপাদন শুরু হয়েছিল এবং যেকোনো ওষুধের দোকানে সহজপ্রাপ্য ছিল। জার্মান সেনাদের এই ট্যাবলেট দেওয়ার আগে নাৎসিবাহিনীর এক চিকিৎসক ৯০ জন ইহুদীদের ওপর পরীক্ষা চালিয়েছিলেন।

অন্য এক তত্ত্ব অনুযায়ী , জার্মান একনায়ক নিজেও এই ওষুধটির নিয়মিত ব্যবহারকারী ছিলেন। প্রসঙ্গত এখানে জার্মান চিকিৎসক থিওডোর মোরেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন । একসময় হিটলারকে অন্ত্রের সমস্যা থেকে মুক্তি দেন এই চিকিৎসক। তারপর থেকেই হিটলার তার প্রতি অনুরাগী হয়ে ওঠেন হিটলার। সংগ্রহশালায় রাখা তার ডাইরি থেকে জানা গেছে যে হিটলার প্রতিদিনই কিছু না কিছু ড্রাগ ব্যবহার করতেন। তবে পারভিটিন ব্যবহার করতেন না তিনি। সব মিলিয়ে ৯ বছরে আনুমানিক ৮০০ রকমের ইঞ্জেকশন নিয়েছিলেন হিটলার। যার ফলস্বরূপ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বহুবার উত্তেজিত হয়ে উঠতেন। শুধুমাত্র এই ড্রাগ এর কারণেই স্টালিনের সঙ্গে মিত্রতা শত্রুতায় পরিণত হয়েছিল। একেবারে শেষে, যখন মিত্রশক্তি একেবারে জার্মানির বাঙ্কারে হানা দেয়, তখন ড্রাগ এর অভাবে নিজেকে পাগলপ্রায় অনুভব করতে থাকেন। এবং শেষ পর্যন্ত কি সেই অন্তিম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন হিটলার? উত্তরটা আজও অজানা ।

লিখেছেন অর্ঘ্য মৈত্র

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: