মুক্তির রূপটানে নৈহাটির ‘বড় মা’ কালীর সাজে অবিকল রিখিয়া

 

বিবিধ ডট ইন: মোবাইল স্ক্রল করতে করতে চোখটা আটকে গেল? হাতের তর্জনী থেমে গেল তাই না! আসলে এটাই আবেগ, আর আবেগের অন্য আরেক নাম বড়-মা। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নৈহাটির অরবিন্দ রোডের ধর্মশালা মোড় সংলগ্ন স্থানে ‘বড় মা’ কালী পুজার আয়োজন করা হয়। প্রায় ১০০ বছর ধরে চলে আসছে ‘বড়ো মা’র পুজো। ২২ ফুট অর্থাৎ ১৪ হাত লম্বা মায়ের মূর্তিটি। কোজাগরী লক্ষী পুজোর দিন বড় মায়ের কাঠামো পুজো করা হয়। ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে আসে যে গল্প, জনৈক ভবেশ চক্রবর্তী, একজন জুটমিল কর্মচারী, বিশিষ্ট সমাজ সেবক, একবার রাস উৎসবে নবদ্বীপে গিয়ে সেখানে অনেক বড় বড় প্রতিমা দেখে বড়মা’র মূর্তি তৈরি করেন। প্রথম পুজো তাঁর নামানুসারে অর্থাৎ ভবেশ কালী নামেই পরিচিত ছিল। পরবর্তী কালে বড়-মা নামে দেশ বিদেশে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছায়।

‘বড় মা’ কালির ওমন ভূবন মোহিনী রুপ দেখলে সত্যিই আশ্চর্য হতে হয়। স্বর্ণ অলঙ্কারে ভূষিতা হন বড়মা। যে মৃৎশিল্পী মাকে মৃন্ময়ী রুপে ফুটিয়ে তোলেন তাঁর সৃষ্টি সত্যিই অনবদ্য, শুধু তাই নয় চক্ষু দান করে থাকেন নিপুন তুলির টানে। মাটির প্রতিমাকে একজন শিল্পীই পারে মৃন্ময়ী রুপ দান করতে, তবে একজন সৌন্দর্য প্রদানকারী শিল্পী জীবন্ত বড়ো মা গড়ে তুললেন তার তুলির টানে। সোদপুরের কন্যা মুক্তি রায়, পেশায় তিনি একজন বিউটি এক্সপার্ট অর্থাৎ মেকআপ আর্টিস্ট। তাঁর কথায়,

নৈহাটির বড় মা কালীর মূর্তি প্রথম যে বছর দর্শন করেছিলাম, মায়ের ওমন ভাবমূর্তি দেখে চোখে জল চলে আসে, তখনই ইচ্ছে জাগে মায়ের জীবন্ত রুপ ফুটিয়ে তোলার। অনেক দ্বিধা ও ভয়কে জয় করে ফুটিয়ে তুললেন জীবন্ত বড় মা।

তবে দমদমের মেয়ে মডেল রিখিয়া রায়চৌধুরীর কৃতিত্বও কম কিছু নয়, অনেক ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন তিনি। একটু একটু করে বড়মা গড়ে তুলতে সময় লেগেছে প্রায় ৯-১০ ঘন্টা। মডেল রিখিয়া রায়চৌধুরী বলেছেন,

‘চোখের ওপর আঁকা থেকে শুরু করে ফটোস্যুটের জন্য ৪-৫ ঘন্টা একটানা চোখ বন্ধ করে থেকেছেন।’

জীবন্ত প্রতিমাকে করজোড়ে প্রণাম ঠুকেছে প্রত্যেকেই, কোনো বৈষম্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। কাজ করেছেন মোট ৬ জন, কেশ সজ্জা শিল্পী স্বরূপ দাশ, চিত্রগ্রাহকের ভূমিকায় অমিত চক্রবর্তী এদের অবদানও যথেষ্ট তা বলাই বাহুল্য। মুক্তির কথায়,

এই প্রফেশনে সে অনেক দিন ধরেই কাজ করেছেন তবে জীবন্ত বড়মা এতটা সাড়া ফেলে দেবে সে ভাবতে পারেনি, এখন ভাইরাল এই ছবিটি।

সাধুবাদ জানিয়েছেন বড়মা কালী পুজো সমিতির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য। ‘বড়মা’ পুজো উদ্যক্তাদের মুল মন্ত্র, ধর্ম হোক যার যার, বড়মা সবার। তাঁদের কথায়,

‘প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী মানুষের ওপর পুষ্পের ন্যায় ঝরে পড়ুক ‘বড়োমা’র আশিষ।’

লিখেছেন তানিয়া নাগ

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: