শুধু লিখেই একজন মোটরগাড়ি কিনেছে, তারাশঙ্করের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত বিভূতিভূষণ

 

বিবিধ ডট ইন: সাহিত্যিক হিসেবে তো বটেই আর্থিকভাবেও প্রতিষ্ঠিত তখন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও কিন্তু লেখক জীবনের দীর্ঘ একটা সময় তাঁকে দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছ। তাঁর অভিন্নহৃদয় বন্ধু ছিলেন বাংলা সাহিত্যের আরেক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তা সাহিত্যিক হিসেবে নামডাক হবার পর, যখন তারাশঙ্করের জীবনে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা এল, ঠিক সেই সময়ই একটি গাড়ি কিনলেন তিনি৷ এদিকে বিভূতিভূষণ রাস্তাঘাটে সবাইকে বড়ে বেড়াতে লাগলেন,

‘আরে শুনেছ হে! তারাশঙ্কর গাড়ি কিনেছে।’

এমনকি বরাবরই গল্পের রসদের জন্য অদ্ভুত কান্ডকারখানা করতে অভ্যস্ত বিভূতিভূষণ পয়সা খরচ করে লোকের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে বন্ধু তারাশঙ্করের গাড়ি কেনার খবির ছিড়িয়ে দিতে থাকলেন। একবার এক পরচিত বিভূতিভূষণের এহেন কান্ডকারখানায় খানিক বিরক্তর স্বরেই বলেছিলেন,

‘তারাশঙ্কর গাড়ি কিনেছে তাতে আপনার কী?’

প্রত্তুতরে বিভূতিভূষণ তাঁকে সপাটে জবাব দিয়েছিলেন,

‘একটা মানুষ শুধু লিখেই একটা আস্ত মটরগাড়ি কিনে ফেলেছে, তাতে আনন্দ পাব না? আর তারাশঙ্কর তো আমার প্রাণের বন্ধু!’

ঠিক এতটাই প্রগাঢ় বন্ধুত্ব ছিল এই দুই বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে। আর-একবারের কথা, একটি সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিতে একই সাথে টেন যাত্রা করছেন দুই বন্ধু, চা পান করতে করতে দুজনের গল্প জমে উঠেছে। বিপত্তি বাধল রাতের খাবার সময়, তারাশঙ্কর খাদ্যরসিক নন উপরন্তু মশলা দেওয়া খাবার তাঁর নিষিদ্ধ। উলটোদিকে বিভূতিভূষণ তৃপ্তি করে খেয়েউ চলেছেন। খাওয়া শেষ হতেই বিভূতিভূষণ তাঁর এঁটো হাত দুখানি তারাশঙ্করের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন,

‘দে না ভাই হাতদুটো ধুয়ে। বড্ড খেয়েছি। উঠতে কষ্ট হচ্ছে।’

তারাশঙ্কর অল্প হেসে খুব যত্ন সহকারে বন্ধুর এঁটো হাত ধুইয়ে, ধুতি দিয়ে মুছিয়ে দিলেন। অন্যদিকে নির্বিকার বিভূতি ঘুমিয়ে পরলেন পাশ ফিরে। এরপর তারাশঙ্কর রাতের শোবার তোড়জোড় করে শুয়ে পড়লেন। দিল্লী এক্সপ্রেস হু হু করে মানভূম পার হয়ে ছুটে চলেছে। কামরায় হঠাৎ ভরে গেল কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস! তারাশঙ্কর দেখলেন,বিভূতিভূষণ জানলা খুলে দিয়েছেন। তারাশঙ্কর হকচকিয়ে উঠে বললেন,

‘করছ কি?’

বিভূতিভূষণ বললেন,

‘আয় এখানে বস। জ্যোৎস্না নেমেছে, দেখ!’

লিখেছেন সায়ন্তন মন্ডল

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: