এ যে বিস্ময়-শিশু! ২০ মাস বয়সেই স্মৃতিশক্তি ও শারীরিক সক্ষমতার জোড়া রেকর্ড?

 

বিবিধ ডট ইন: বয়স মাত্র ২০ মাস ৷ আর এর মধ্যেই জোড়া রেকর্ড পকেটে পুরে ফেলেছে হুগলির ‘বিষ্ময় শিশু’ ভ্রাজিষ্ণু ভট্টাচার্য! তার স্মৃতিশক্তি এবং শারীরিক সক্ষমতা তাক লাগিয়ে দিয়েছে রেকর্ড সংস্থার বিশেষজ্ঞদেরও৷ তার খেলার সরঞ্জাম দেখলে যে কারও চোখ কপালে উঠতে পারে৷ আসলে আর পাঁচটা বাচ্চার মতো গড়পড়তা খেলনায় ভ্রাজিষ্ণুর তেমন আগ্রহ নেই। বদলে তার চাই ল্যাপটপ, বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকার রেপ্লিকা থেকে শুরু করে আস্ত এনসাইক্লোপিডিয়া!

ভ্রাজিষ্ণুর মা কাকলি ভট্টাচার্য গৃহবধূ। তাঁর স্বামী দিলীপের ঘুড়ির ব্যবসা রয়েছে৷ কাকলী জানালেন, তুখোড় স্মৃতিশক্তির প্রমাণ দিয়ে আগেই ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে নাম তুলেছিল ভ্রাজিষ্ণু ৷ আর গত ২৮ জুলাই এশিয়া বুক অফ রেকর্ডসেও জায়গা করে নেয় সে ৷ ঠিক কীভাবে ঘটল এমন ঘটনা?

ভট্টাচার্য দম্পতি শিব ও বিষ্ণুর উপাসক৷ তাঁদের বাড়িতে প্রচুর দেবদেবীর ছবি রয়েছে৷ জন্মের পর থেকেই সেইসব ছবি দেখছে ভ্রাজিষ্ণু। তার যখন মাত্র দেড় মাস বয়স, তখনই এক আশ্চর্য ঘটনা লক্ষ করেন দিলীপ ও কাকলি। তাঁরা দেখেন, ওইটুকু বয়সেই তাঁদের সন্তান শুধুমাত্র দেবদেবীর নাম শুনে তাঁদের ছবি চিনতে পারছে! সময় যত গড়িয়েছে, ভ্রাজিষ্ণুর এই ক্ষমতা আরও প্রখর হয়েছে। কাকলি বলেন, তাঁদের ছেলে এর মধ্যেই শতাধিক দেশের জাতীয় পতাকা দেখে চিনতে পারে। কানে নাম শুনে অসংখ্য বিখ্য়াত ব্যক্তির ছবি চিহ্নিত করতে পারে। অনায়াসে দেখিয়ে দিতে পারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী কিংবা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ছবি৷ দেশের নাম শুনে গ্লোবে তার সঠিক অবস্থানও দেখিয়ে দিতে পারে।

কাকলি জানালেন, তাঁর ছেলের অসামান্য স্মৃতিশক্তির কথা ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ছিলেন তাঁরা৷ এরপরই ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসের তরফ থেকে ভট্টাচার্য দম্পতির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং ছোট্ট ভ্রাজিষ্ণু সম্পর্কে তাঁরা যে দাবি করেছেন, তার প্রমাণ চাওয়া হয় ৷ সেই প্রমাণ (ভ্রাজিষ্ণুর কীর্তির ভিডিয়ো রেকর্ডিং) সংস্থার দফতরে পাঠাতেই চোখ কপালে ওঠে আধিকারিকদের৷ ফলস্বরূপ মাত্র দেড় বছর (১৮ মাস) বয়সেই ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে জায়গা করে নেয় ভ্রাজিষ্ণু।

তবে, বিস্ময়ের পালা যে আরও বাকি, তখনও তা জানতেন না কাকলি ও দিলীপ ৷ ভ্রাজিষ্ণু যখন থেকে হাঁটতে শিখেছে, তখন থেকেই সে ছাদে একা-একা হাঁটত৷ তার বাবা-মা লক্ষ করেন, কারও সাহায্য ছাড়াই একসঙ্গে অনেকটা রাস্তা পাড়ি দিতে পারে ভ্রাজিষ্ণু৷ প্রমাণ বলছে, বড়দের কাছ থেকে এতটুকু সাহায্য না নিয়ে ছোট্ট ছোট্ট পায়ে সাবলীলভাবে দেড় কিলোমিটার হাঁটতে পারে সে! এই ঘটনা দেখে কার্যত ভিরমি খাওয়ার জোগাড় হয় এশিয়া বুক অফ রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের৷ ভ্রাজিষ্ণুর এই অসাধারণ ক্ষমতার স্বীকৃতি হিসাবে তার নাম নথিভুক্ত করা হয় চলতি বছরের রেকর্ডধারীদের তালিকায়৷ গত ২৮ জুলাই সেই স্বীকৃতির শংসাপত্র পৌঁছে যায় ভ্রাজিষ্ণুর বাড়িতে ৷

রেকর্ডকাকলি জানিয়েছেন, তাঁরা ভ্রাজিষ্ণুকে নানা ধরনের বই কিনে দেন। সারাক্ষণ সেইসব বইয়ের পাতায় ডুবে থাকে তাঁদের আদরের ছোট্ট ছেলে৷ এর মধ্যেই স্মার্টফোনের সবরকম কেরামতি তার নখদর্পণে৷ নিজে নিজেই চালাতে পারে ল্যাপটপ৷ স্রেফ কানে শুনেই মনে রাখতে পারে গোটা একটা বইয়ের তথ্য! তবে, খুব বেশি কথা বলতে পারে না ভ্রাজিষ্ণু৷ আধো গলায় কোনও মতে বলে বাবা আর মা!

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: